আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জরুরি জ্বালানি তেলের মজুত কমে আসা এবং সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বাড়তে থাকায় নতুন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব ক্রমেই কম প্রস্তুত হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ধাক্কা এলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।
আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবে সামাল দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত ও সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ কমে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহন এবং কৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত মার্চে ইতিহাসের বৃহত্তম জরুরি তেল মজুত ছাড়ার ঘোষণা দেয়। পরে জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের পর সেই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত সম্প্রতি ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে মার্কিন বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পে জ্বালানির দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না।
মঙ্গলবার ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক চলাকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৭ সালের জন্যও একই হারে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগের ২ দশমিক ২ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে ০ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে।
আইএমএফের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সিলভানা তেনরেইরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ নিতে হবে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও সরকারগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিতে আর দেরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি ঋণ বাড়তে থাকায় জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আবার বেড়ে গেলে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে অনেক সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নাও থাকতে পারে।
জ্বালানি তেলের মজুত কমে আসা, সরকারি ঋণের চাপ এবং বাজেট ঘাটতির প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।

